প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ১, ২০২৬, ৫:২৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামে ৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল, জেলায় পাসের হার ৪০.৭২%

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। শতভাগ ফেল করা এই ৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে এবার মোট ৭০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এ হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে সর্বাধিক ২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
এছাড়া নাগেশ্বরী মডেল কলেজ থেকে ১৫ জন, রাজারহাটের সিঙ্গার ডাবরিরহাট কলেজ থেকে ১০ জন এবং সিঙ্গার ডাবরিরহাট বি.এল. হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন।
তালিকার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নাগেশ্বরীর কুটি পায়রাডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন, ছিলাখানা মডেল কলেজ থেকে ৪ জন, উলিপুরের হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৩ জন, চিলমারীর দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২ জন এবং রাজারহাটের পাঙ্গারাণী লক্ষ্মী প্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। যাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শুধু শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানই নয়, কুড়িগ্রাম জেলার সামগ্রিক ফলাফলও বেশ হতাশাজনক। এ বছর জেলা থেকে মোট ১১ হাজার ৭২২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৭৭৩ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪০.৭২ শতাংশ। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন আটটি জেলার মধ্যে পাসের হারে কুড়িগ্রামের অবস্থান ষষ্ঠ।
তবে ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। ৫ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্রের মধ্যে পাসের হার ৩৫.৯৫ শতাংশ, অন্যদিকে ৬ হাজার ৩৯ জন ছাত্রীর পাসের হার ৪৫.২১ শতাংশ। চলতি বছর জেলাজুড়ে মোট ১৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন; যার মধ্যে ৫৯ জন ছাত্র এবং ৭৭ জন ছাত্রী।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে উলিপুরের হজরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজ রহুল আমিন বলেন, "আমাদের প্রতিষ্ঠানের যে তিনজন পরীক্ষা দিয়েছিল, তারা সবাই বিবাহিত। সংসারের চাপে তারা নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারেনি। আমরা সবসময় চাই শিক্ষার্থীরা ভালো করুক, কিন্তু তাদের নিজেদের আগ্রহ ও চেষ্টা না থাকলে ভালো ফল করা সম্ভব নয়।"
এ বিষয়ে জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী জানান, "আমরা মূলত সাধারণ মাধ্যমিক শাখার কার্যক্রম তদারকি করে থাকি। উচ্চমাধ্যমিক শাখা সরাসরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত অবগত নই।"
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫