কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার সঙ্কটের কারণে ডিলারের গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছে কৃষকরা। রোববার সকাল ১১ টায় উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লুট হওয়া সার উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। কেউ কেউ ফিরিয়ে দিয়ে গেছেন।
জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে সারের নিরব শঙ্কট চলছে বিভিন্ন এলাকায়। শিলখুড়ী ইউনিয়নের কৃষকরা বারবার চেষ্টা করেও সার পাচ্ছিলেন না। ডিলারদের বিরুদ্ধে বাজারে সার বিক্রির অভিযোগও তুলছেন তারা। কারণ ডিলারের গুদামে সার না মিললেও খোলা বাজারে বেশি দামে সার মিলছে।
এ অবস্থায় তিলাই ইউনিয়নের সার ডিলার ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্স বরাদ্দের ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করে গুদামে রাখেন। কৃষকরা বারবার গেলেও ডিলারের লোকজন সার দিচ্ছিলেন না। পরে রোববার ১১ টার স্থানীয় কৃষকরা একজোট হয়ে গুদাম ভেঙে ইউরিয়া সার নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিরোধ করে। এক পর্যায়ে সার ফেরত দিতে কৃষককে অনুরোধ করলে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ডিলার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ওই ইউনিয়নে মোট বরাদ্দ ছিল ১৩শ ২০ বস্তা। এর মধ্যে এবারের ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেছেন ওই ডিলার। এ অবস্থায় রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, তার ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২শ বস্তা সার নিয়ে গেছে কৃষকরা। বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, এখানে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু বরাদ্দ ১৩২০ বস্তা। উত্তোলন আরও কম ছিল। ফলে কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে থামিয়েছে। এরমধ্যে ১৯৭ বস্তা সার কৃষকরা নিয়ে গেছে। পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন ৩৩ বস্তা সার।ফেরত দিয়ে গেছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, আমি সারাদিন জেলা মিটিং-এ ছিলাম। ফলে বিষয়টি জানিনা।