স্বাধীনতার ইতিহাসে দেশের মানুষ এত গণমুখী, জনকল্যাণমুখী ও বাস্তবধর্মী বাজেট আর কখনও দেখেনি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
বিএনপি সরকারের ঘোষিত প্রথম জাতীয় বাজেট উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ও মোকামতলা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক আনন্দ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল ৪ টায় শিবগঞ্জ ও সন্ধ্যা ৭ টায় মোকামতলা উপজেলায় পৃথক মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বাজেট কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়; এটি দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী—সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে এ বাজেটে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার শিক্ষা খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে। একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও আধুনিক জাতি গঠনের লক্ষ্যেই এই বিনিয়োগ। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে অতীতের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারে।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, এই বাজেটেই প্রথমবারের মতো ক্যান্সার রোগীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুসেবা, ওষুধের প্রাপ্যতা এবং হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, সুস্থ মানুষই উন্নত রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি বলেন, গ্রামের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে শহরের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—সব শ্রেণির মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, কৃষি, শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই বাজেট শুধু একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়; এটি একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে।
পরে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বর হয়ে মীর মুগ্ধ স্কয়ারে এসে শেষ হয়। অন্যদিকে মোকামতলা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আরেকটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সমাপ্ত হয়। মিছিল ও আলোচনা সভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।