শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজায় হঠাৎ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইদ্রিস আলী,শহিদুল হক ও আতাউল ইসলামের বসতভিটা তিস্তার গর্ভে তলিয়ে যায়। আকস্মিক এই ভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। আরও অন্তত ২০ থেকে ২৫টি পরিবার বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,শত কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান ৪০টি প্যাকেজের কাজের ধীরগতিই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। কাঙ্ক্ষিত সুফল না মেলায় নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো প্রতিরক্ষা গড়ে উঠছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জাহেরুল ইসলাম মাওলানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি আর কাজের ধীরগতিতে আমরা আজ নিঃস্ব। লেবার সর্দারের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং সম্পন্ন না হলে বরাদ্দের টাকাও অপচয় হবে, আর ভোগান্তি বাড়বে আমাদের।”
এদিকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ,সঠিক সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়তো তাদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা পেত।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব মজিদুল ইসলাম জানান,তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে একটি প্যাকেজের কাজ বরাদ্দের আশ্বাস দিলেও তা যেন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়,সেই দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন,রামহরি এলাকায় আগে ইমারজেন্সি জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল,তবে তা টেকসই হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ পুনরায় ওই এলাকায় ৬ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
নদীপাড়ের মানুষের একটাই দাবি—দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে তিস্তার এই ভয়াল থাবা থেকে দ্রুত তাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি রক্ষা করা হোক। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।