রাত থেকে বিকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি।গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না।আজ সূর্য মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছে আবার চলে যাচ্ছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
আজ ৭ জানুয়ারী কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ জেলায় সবনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ ভাগ।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষক নাজমুল বলেন চলতি মৌসুমে বোরে ধান রোপণের বীজতলা করা হচ্ছে। কিন্তু কনকনে ঠান্ডা আর শীতে বীজতলার চারা গুলো লাঁলচে ও কোঁকড়ানো হবানছে। চারা ভালো না হলে হামার কৃষক মানুষ গুলো ধান রোপণ করব কী দিয়ে?
নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল পেশায় জেলে।মাছ ধরে জীবন জীবীকা নির্বাহ করে। সাংবাদিকদের সাথে শামসুলের কথা হলে বলেন ঠান্ডায় পানিত নামতে মন চায় না।মাছ না মারলে পেঁটে ভাত যায় না।বউ বাচ্চা ধরি কয়েক দিন থেকে খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সদর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বৈশ্য পাড়ার অঞ্জলি রাণী বলেন দুই বেটা, দুই বেটি কাইয়ো পোষে না।এই ঠান্ডায় সারাবেরি গেনু কাইয়ো কম্বল দিল না। একনা চাঁদর গাঁত দিয়ে থাকোং।
এদিকে এবছর শীতের কারণে গত কয়েক দিন থেকে জ্বর, সর্দি, অ্যাজমা, হাঁপানি ও ডাইরিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বেড়ে চলছে।
এবিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে।
কিছু রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।আবার কিছু কিছু রোগী হাসপাতালের ভর্তি হচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকতা আব্দুল মতিন জানান ৯ টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে ও নতুন করে বরাদ্দ এসেছে শীঘ্রই তা শীতার্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে।