কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ঘোষণার দাবিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু-এর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী।
গত শনিবার সরকারি সফরে কুড়িগ্রাম সফরে আসেন মন্ত্রী। সফরকালে তিনি প্রস্তাবিত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থান পরিদর্শন এবং জেলার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে বিকেলে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এ সময় কচাকাটা থানাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ঘোষণার দাবিতে কচাকাটা এলাকার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু মন্ত্রীর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কচাকাটা একটি প্রাচীন ও জনবহুল অঞ্চল। বর্তমানে এটি প্রশাসনিকভাবে থানা হিসেবে পরিচালিত হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, আয়তন, অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও যোগাযোগব্যবস্থার দিক থেকে এটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
এলাকাবাসীর দাবি, দুধকুমার, গঙ্গাধার, সংকোষ ও ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা দ্বারা বেষ্টিত কচাকাটা থানার মানুষের জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ অত্যন্ত দুরূহ। জেলা সদর থেকে নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী হয়ে কচাকাটায় যেতে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়।
বর্তমানে কচাকাটা থানার আওতায় কচাকাটা, বলদিয়া, বল্লভের খাস, কেদার ও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নারায়ণপুরসহ পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিয়ন রয়েছে। পাশাপাশি কালীগঞ্জ, বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের কিছু অংশও এ থানার আওতাভুক্ত। এলাকায় রয়েছে চারটি কলেজ, ৭৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৪টি মাদ্রাসা। প্রায় চার লাখ মানুষকে প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কাজের জন্য দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, পূর্ণাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় এলাকার প্রসূতি মা, শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। জরুরি চিকিৎসার জন্য মানুষকে ৩০ কিলোমিটার দূরের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৬০ কিলোমিটার দূরের নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। এতে জরুরি চিকিৎসা ব্যাহত হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, কচাকাটাকে উপজেলা ঘোষণা করা হলে সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ঘটবে। ভারতের আসাম সীমান্তঘেঁষা এ অঞ্চলে স্থলবন্দর ও ভুটান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রস্তাবিত দুধকুমার নদের ওপর সেতু নির্মিত হলে জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হবে।
কচাকাটা থানা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস চঞ্চল বলেন, “২০১১ সাল থেকে কচাকাটাকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন, গণসংযোগ, স্মারকলিপি প্রদান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। অবহেলিত এ অঞ্চলের মানুষের মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে কচাকাটাকে উপজেলায় উন্নীত করা জরুরি।”
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও জনদাবির প্রেক্ষিতে ২০০৩ সালে পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে কচাকাটা প্রশাসনিক থানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু এখানকার বিপুল জনগোষ্ঠীর নাগরিক সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কচাকাটাকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ঘোষণা করা সময়ের দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”
- india vs pakistin
- page the news
- আওয়ামী লীগ
- এনসিপি
- কমিটি
- ছাত্রদল
- জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যানের অনিয়মে তদন্ত দাবি
- জামাত
- জামাত শিবির
- তা’মীরুল মিল্লাত
- পেজ দ্যা নিউজ
- বিএনপি
- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ
- ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ; পুরনো কায়দায় প্রভাবশালী কোম্পানির দৌরাত্ম্য
- যুবলীগ
- শন টেইট
- শিক্ষার্থীর মৃত্যু
- সড়ক দূর্ঘটনা
- সাংবাদিক নিয়োগ
- স্বেচ্ছাসেবক লীগ
এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।

