ঢাকারবিবার , ২১ জুন ২০২৬
  1. ইতিহাস
  2. উলিপুর উপজেলা
  3. এসবি পডকাস্ট (বিভাগ ভিত্তিক)
  4. কুড়িগ্রাম
  5. কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা
  6. খুলনা বিভাগ
  7. চট্টগ্রাম বিভাগ
  8. চাকরি
  9. চিলমারী উপজেলা
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. নাগেশ্বরী উপজেলা
  13. নারী
  14. প্রযুক্তি
  15. ফুলবাড়ী উপজেলা
আজকের সর্বশেষ খবর

কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ বাড়ছে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
জুন ২১, ২০২৬ ৯:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুড়িগ্রামে বাড়ির ছাদ কিংবা উঠানসহ পুকুরে প্রথমবারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের উৎপাদন বাড়ছে। স্বল্প খরচে মাছ চাষ করে অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখাযায়, রাজারহাট উপজেলার বোতলার পাড়ের বাসিন্দা মৎস্য চাষী উমর ফারুক তার প্রায় দুই একর  একটি পুকুরে স্থাপন করেছেন অটোমোটেড ফিশ ফিডার মেশিন। বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এয়ারেটর,অটোমোটেড ফিশ ফিডার,সিসি ক্যামেরা বিভিন্ন পুুকুরে স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চাষীদের সময়,খাবার অপচয় রোধ ও অর্থ সাশ্রয় হবার পাশাপাশ তীব্র তাপদাহ মাছের অক্সিজেন স্বাভাবিক রেখে মাছ দ্রুত বর্ধনশীল হচ্ছে। ফলে পরিবেশ ও মানুষের জন্য হুমকি মাছ চাষে ব্যবহৃত রাসায়নিকসমূহ কমছে। অধিক মুনাফা লাভের আশায় এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে রাসায়নিক খাবার,অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার করে থাকে চাষীরা। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। এসব রাসায়নিক ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে আধুনিক পুকুর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুকুরের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রেখে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। অটোমেশনের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির খামারের জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানভিত্তিক, পরিবেশবান্ধব করার কাজ চলমান। এছাড়াও চাষীদের মাছ চাষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুকুর গুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য এসব আধুনিক প্রযুক্তি বেশ ভূমিকা রাখছে। আরডিআরএস ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহায়তায় নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিত্যক্ত উঠান বা বাড়ির ছাদে ট্যাংকে করে মাছ চাষ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জেলায় প্রথমবারের মতো একোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ করা হচ্ছে। রাজারহাট উপজেলায় ৫টি  ছাদ ও উঠানে অস্থায়ী ট্যাংকে গড়ে ৫/৬হাজার করে ভিয়েতনাম কই,ট্যাংরাসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ স্বল্প খরচে চাষ করা হচ্ছে। এতে করে পরিবারের মাছের পুষ্টির চাহিদা পূরনের সাথে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে মাঠ পর্যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাঠ দিবস করা হচ্ছে।
মৎস্য চাষী উমর ফারুক বলেন,প্রথমবারের মতো অটোমোটেড ফিশ ফিডার মেশিন স্থাপন করেছি। প্রায় ৪৫হাজার টাকার এই মেশিনে ১২০ কেজি খাবার ধারণ ক্ষমতা। এখানে মোবাইলের অ্যাপসের মাধ্যমে সময় ঠিক করে রাখা যায়। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী অটোমেটিক ভাবে পুকুর খাবার পড়তে থাকে। বিদ্যুৎ না থাকলেও সোলার দিয়েও এই মেশিন চালানো যায়। এতে করে মাছের খাবার অপচয় রোধসহ শ্রমিক সংকটের কারণে মাছের খাবার দিতে ব্যাহত হয় সেই ঝামেলা আর নেই। ফলে সময়,অর্থ ব্যয় কমেছে। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা তীব্র তাপমাত্রায় মাছের খাবার দেয়ার বিরম্বনা থেকে মুক্তি পেয়েছি। পুকুরের পাশেই সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এতে করে মাছের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হচ্ছে।
চাষী অনিতা রাণী বলেন,আমার তিনতলা বিশিষ্ট ছাদটি পরিত্যক্ত ছিল। আরডিআরএস ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এই ছাদে একোয়াপনিক্স পদ্ধতিতে মাছ ও সবজির সমন্বিত চাষ করছি। অস্থায়ী দুটি ট্যাংকে ভিয়েতনাম কই এবং ট্যাংরা মাছ চাষ করছি। পাশাপাশি ছাদ বাগানে মরিচ,শাক-সবজিসহ ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। ছাদে মাছ ও সবজি চাষের জন্য কোন শ্রমিক দরকার হয় না। বাড়ির কাজে শেষ করে অবসর সময়ে মাছের খাবার দেয়া হয়। এতে করে পরিবারের সদস্যদের খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আরডিআরএস বাংলাদেশ মৎস্য টেকনিক্যাল অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন,দারিদ্রপীড়িত জেলার মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ,মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বাড়ার লক্ষ্যে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে কাজ করছে  আরডিআরএস ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন।
রাজারহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন,উপজেলার বিভিন্ন পুকুরে প্রথমবারের মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে করে মৎস্যজীবিদের সময়,অর্থ এবং ভোগান্তি কমে আসবে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।