ঢাকাবুধবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  1. ইতিহাস
  2. উলিপুর উপজেলা
  3. এসবি পডকাস্ট (বিভাগ ভিত্তিক)
  4. কুড়িগ্রাম
  5. কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা
  6. খুলনা বিভাগ
  7. চট্টগ্রাম বিভাগ
  8. চাকরি
  9. চিলমারী উপজেলা
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. নাগেশ্বরী উপজেলা
  13. নারী
  14. প্রযুক্তি
  15. ফুলবাড়ী উপজেলা
আজকের সর্বশেষ খবর

কুড়িগ্রাম-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশি বিএনপি’র উমর ফারুখ- পাল্টে যাচ্ছে হিসাব-নিকাশ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫ ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশি

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব জনাব উমর ফারুখ হঠাৎ করে মনোনয়ন চাইবেন তার এমন প্রত্যাশার খবর কুড়িগ্রাম -২ সংসদীয় নির্বাচনী এলাকায় পাল্টে যাচ্ছে মাঠ পর্যায়ের ভোটার ও দলীয় রাজনীতির হিসাব- নিকাশ।

সম্প্রতি বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় জনাব উমর ফারুখের মনোনয়ন প্রত্যাশার খবর প্রকাশ পাওয়ায়, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। খোদ জেলা বিএনপির অভ্যান্তরীন রাজনৈতিক পরিমন্ডলে তার মনোনয়ন প্রত্যাশাকে ঘিরে খেলা জমে খীরে পরিণত হচ্ছে।

আজ ১০ সেপ্টেম্বর বুধবার বিভিন্ন মিডিয়ায় এক সাক্ষাৎকারে জনাব উমর ফারুখ কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী ও রাজারহাট উপজেলা) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার দলের সকলেরই রয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে যে খেলোয়াড় খেলার মাঠে ক্রিকেট খেলে নাই কোচ প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার জন্য তাকে কখনই খেলায় নেবে না। প্রতিপক্ষের সাথে জিততে হলে যোগ্যতা লাগে তেমনি রাজনৈতিক ময়দানে যে রাজনৈতিক নেতা জীবনে কোনদিন এমপি কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার নির্বাচন করেন নাই কিংবা রাজনীতিতে নিজ এলাকায় যাদের কদর নাই, রাজনৈতিক ময়দানে তার কোন দাম নাই। আমি উমর ফারুখ কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির ঘাটিকে মাটি করে দিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে বিএনপি থেকে নির্বাচিত কুড়িগ্রাম – ২ আাসনের সাবেক সাংসদ। কুড়িগ্রামের মাটি ও মানুষ আমাকে চেনে, আমার প্রতি সকলের আস্থা আছে তেমনি আমার প্রতি দলেরও আস্থা আছে। আমি দলের মনোনয়ন চাইবো, আশা করছি দল যদি ত্যাগীনেতা এবং নেতার ক্লিন ইমেজ এবং জনসমর্থনকে বিবেচনায় রাখে এবং
আমার রাজনৈতিক জীবন বিবেচনা করে তবে কুড়িগ্রাম – ২ আসনে আমাকেই মনোনয়ন দিবে।

মনোনয়ন পাবার প্রত্যাশায় জনাব উমর ফারখ ইতোমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান- এর নির্দেশে রাস্ট্র কাঠামো মেরামত ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণের মধ্যদিয়ে দলীয় নেতা- কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠ গরম করে বেড়াচ্ছেন।

মনোনয়ন পাবার প্রত্যাশায় তিনি তার
রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে লেখাপড়া শেষ করে ১৯৭৭ সালে সর্বপ্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে জাগদলে যোগদান করি। ১৯৭৮ সালে যুবদলের প্রতিষ্টাতা সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করি এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের খাদ্য বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হই।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাকে এতোটাই ভালোবাসতেন যে, ১৯৮০ সালে আমার গুরুতর অসুস্থতার কথা শুনে হেলিকাপ্টার যোগে কুড়িগ্রাম থেকে আমাকে ঢাকায় নিয়ে যান এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সু- চিকিৎসা করান। ১৯৮১ সালে সমুদ্র সম্পদ আহরণের উদ্দেশ্যে কৃতি যুবক হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে হিজবুল্লাহ বাহারে সমুদ্রভ্রমন করি।
১৯৮১-৮২ সালে যুব মন্ত্রণালয়ের অধীন, জাতীয় যুব সংস্থার কুড়িগ্রাম জেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে অগণিত বেকার যুবদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের সুযেগ করে দেই। সেই সময় আওয়ামী সমর্থিত দাপুটে প্রার্থীকে পরাজিত করে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে একটানা ৩৬ বছর চেয়ারম্যান থাকায় জেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্নপদক প্রাপ্ত হই এবং সাতটি দেশ ভ্রমন করার সুভাগ্য অর্জন করি। এই সুবাদে ওই সময়ে কুড়িগ্রাম জেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি পদে টানা ৩০ বছর দায়িত্ব পালন করি।

১৯৮৬ সালে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি সম্পাদকসহ অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ জাতীয় পার্টিতে
যোগদান করায় সেই সময় কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপিতে নেতৃত্বের শুন্যতা বিরাজ করে। সেই সময় আমি উমর ফারুখ কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের সভাপতি ছিলাম, সেই সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির হাল ধরি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটানা ১৯ বছর কৃতিত্বের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি।

১৯৮৭- ৮৮ সালে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে কুড়িগ্রামের মুল আসামি হিসেবে মিথ্যা ও বানোয়াট শতাধিক মামলা মাথায় নিয়ে কারাগারে নির্যাতনের শিকার হই।
১৯৮৮- সালে কুড়িগ্রাম আদর্শ মজিদা কলেজ মাঠে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশাল জনসভার সভাপতিত্ব করি, পরের বছর কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির রাজনীতি থেকে আমাকে সরিয়ে দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু হলে তৎকালীন বিরোধী দলের গুন্ডা বাহিনী দ্বারা আমার ঘোষপাড়াস্থ ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। ১৯৯৫- সালে আমাকে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৯৬- সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ২৬ কুড়িগ্রাম -২ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হই। ২০০৯ সালে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নির্বাচিত হই। এই কমিটিতে বর্তমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভী আহ্ববায়ক কমিটির ১ নং সদস্য ছিলেন। এখন আমি সর্বশেষ ২০২৫ – সালের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় রয়েছি।

সময় পরিবর্তন হয়েছে, রাজনৈতিক
মেরুকরণও বদলেছে। দল থেকেও নির্দেশ আছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল কোন বিতর্কিত ব্যক্তি, কোন টেন্ডারবাজ, কোন চাঁদাবাজ, কোন তেলবাজ, কোন দখলবাজ কিংবা দলের ভিতরে থেকে দলের সুনাম ক্ষুন্ন করে এমন কোন ব্যক্তিকে
মনোনয়ন দেবে না। জনাব উমর ফারুখ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দল পরীক্ষিত নেতাকে মনোনয়ন দিলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে তিনিই মনোনয়ন পাবেন।

অপরদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম -২
আসনে দলের বর্তমান আহবায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জনাব শফিকুল ইসলাম বেবু ও সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ মনোনয়ন পাবেন এমন আশাবাদী। দল থেকে যদি তাদের যে- কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে আপনি কী তাদের সঙ্গে কাজ করবেন – এমন প্রশ্ন করা হলে জনাব উমর ফারুখ সাফ জানান, বিএনপি একটি উদারপন্থী দল, এই দলের ভোটার থেকে শুরু করে সকল নেতাকর্মী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে আদর্শিক। অভ্যান্তরিন কোন্দল যাই থাকুক দল যাকেই মনোনয়ন দিবে তার হয়েই শুধু আমি কেন সকলেই কাজ করবে। দল করলে দলের কাজ করতে বাধ্য, না করলেই শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে বহিস্কার।

আসন্ন নির্বাচনে কুড়িগ্রামে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে তিনি ২০২৪- এর গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা স্মরণ করে দিয়ে জানান, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের সব কয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপিই জয় লাভ করবে এমনটিই আশা করছি আমরা। এজন্য বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যদলের সমর্থিত প্রার্থীর সঙ্গেই তুমুল লড়াই করে জয়ী হতে হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারনা বিষয়টি অতো সহজ নয়। তাদের ধারণা দলগুলো প্রার্থী নির্বাচনে নূন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত নিলেই প্রতিক্ষকের জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। সে বিষয়টি দলের পক্ষে বিবেচনা করা হচ্ছে। ‘গাঁয়ে মানে না- আপনি মোড়ল’- এমন ভাব দেখিয়ে দলের মনোনয়ন নেয়ার দিন শেষ।

দল এবার আমার মতো প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তি, পরীক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ক্লিন ইমেজের সফল ত্যাগী নেতাকেই মমোনয়ন দিবে। সেই হিসেবে কুড়িগ্রাম – ২ আসনে আমি উমর ফারুখকেই মনোনয়ন দিবে বলে আশা করছি বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।