ঢাকারবিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. ইতিহাস
  2. উলিপুর উপজেলা
  3. এসবি পডকাস্ট (বিভাগ ভিত্তিক)
  4. কুড়িগ্রাম
  5. কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা
  6. খুলনা বিভাগ
  7. চট্টগ্রাম বিভাগ
  8. চাকরি
  9. চিলমারী উপজেলা
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. নাগেশ্বরী উপজেলা
  13. নারী
  14. প্রযুক্তি
  15. ফুলবাড়ী উপজেলা
আজকের সর্বশেষ খবর

ধরলার ভাঙনে ঘর-জমি হারিয়ে দিশেহারা মানুষ, মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল রক্ষায় স্থায়ী বাঁধের দাবি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ৫:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

একদিকে নদী, অন্যদিকে ভাঙনের আতঙ্ক—প্রতিদিনই যেন নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চর এলাকার মানুষের জীবন। বসতভিটা, ফসলি জমি হারানোর পর এবার তাদের চোখের সামনে হুমকিতে পড়েছে বিদ্যালয়, মাদরাসা, মসজিদ ও কবরস্থান। ধরলার অব্যাহত ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জগমনের চরে আয়োজিত মানববন্ধনে চার শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অংশ নেন। এ সময় ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কয়েক বছর ধরে ধরলা নদীর ভাঙনে জগমনের চর এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরই মধ্যে প্রায় ৪০-৫০টি বসতবাড়ি হারিয়ে গেছে নদীর করাল গ্রাসে। একসময় যেখানে ছিল মানুষের ঘর, উঠান আর ফসলের মাঠ, সেখানে এখন নদীর স্রোত।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এবার হারিয়ে যেতে পারে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও। নদীর খুব কাছেই রয়েছে বিদ্যালয়, মাদরাসা, মসজিদ ও কবরস্থান। এসব প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে গেলে শুধু স্থাপনা হারাবে না, বিপর্যস্ত হবে পুরো চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা।

স্থানীয় বাসিন্দা কোবাদ আলী বলেন, “প্রতিবছরই নদী আমাদের ঘরবাড়ি আর জমি কেড়ে নিচ্ছে। কতবার যে ঘর সরিয়েছি, তার হিসাব নেই। স্থায়ী বাঁধ ছাড়া এই ভাঙন থেকে আমাদের রক্ষা পাওয়ার আর কোনো পথ নেই।”

আরেক বাসিন্দা কাশেম আলী বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আমরা শঙ্কায় আছি। বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে গেলে চরাঞ্চলের শত শত শিশুর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা চাই।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চোখেমুখেও ছিল অনিশ্চয়তার ছাপ। স্থানীয়রা বলেন, নদীভাঙনের কারণে প্রতিনিয়ত তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। আজ যে বাড়িটি আছে, আগামী বর্ষায় সেটি থাকবে কি না—এমন শঙ্কা নিয়েই দিন কাটছে অনেক পরিবারের।

মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগীরা ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনকবলিত এলাকাকে টেকসইভাবে রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের দাবি, আর কোনো পরিবার যেন বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব না হয়, আর কোনো শিশুর বিদ্যালয় যেন নদীর পানিতে হারিয়ে না যায়—এ জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।