কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থেকে রংপুর রুটে মেইল বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই উপজেলার হাজারো যাত্রী। গত ১ জুন একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাস মালিকপক্ষ এ রুটে মেইল বাস চলাচল বন্ধ রাখে। ফলে ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুরুঙ্গামারী-রংপুর রুটে সরাসরি মেইল বাস সার্ভিস দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের অন্যতম ভরসা ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীরা এই পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু গত ১ জুনের ঘটনার পর থেকে মালিকপক্ষ মেইল বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করলে বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
বর্তমানে রংপুর যেতে যাত্রীদের একাধিকবার যানবাহন পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এতে যেমন ভাড়া বেড়েছে, তেমনি সময়ও বেশি লাগছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এই যাত্রা আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। লাগেজ ও ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনেও বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান জানান, সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত মেইল বাস চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো ভুরুঙ্গামারী থেকে রংপুর পর্যন্ত মেইল বাস চলাচল শুরু হয়। দুই বছর চলার পর ২০০৯ সালে সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন সময়ে চালু ও বন্ধের ধারাবাহিকতা চলতে থাকে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পুনরায় চালু হলেও মাত্র ছয় মাসের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে যায় এ সেবা।
মেইল বাস চালুর দাবিতে ইতোমধ্যে ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করেছে। তারা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছে। সংগঠনগুলোর দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত এ রুটে সরাসরি বাস চলাচল পুনরায় চালু করতে হবে।
বাস শ্রমিক নেতা বিমল ঘোষ বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব করতে গতকাল থেকে লোকাল বাস চলাচল শুরু হয়েছে। তবে মেইল বা কোচ সার্ভিস চালুর বিষয়ে আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে।”
এ বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,সমস্যাটি সমাধানে মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত মেইল বাস চালুর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে প্রতিদিনের মতো এখনও চরম দুর্ভোগ নিয়ে যাতায়াত করছেন ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরীর সাধারণ মানুষ। তাদের একটাই দাবি—দ্রুত মেইল বাস চালু করে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হোক।

