কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম খোদাদাদ হোসেনের বদলীর খবরে মিষ্টি বিতরণ করেছে জুলাই যোদ্ধারা। রোববার দুপুরে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে জনসাধারণের মাঝে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ উল্লাস করতে দেখা গেছে তাদের। এসময় জুলাই যোদ্ধাদের অসম্মানসহ নানা অভিযোগ তোলেন মিষ্টি বিতরণকারীরা।
জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই উপজেলা পরিষদ হলরুমে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় স্থানীয় জুলাই যোদ্ধারের ডেকে নিয়ে তাদের বসতে দেয়া হয়নি। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। জুলাই যোদ্ধারা বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ভাইরাল হয়ে যায়।
১৬ জুলাই’২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে চার্জ অফিসার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস ফরিদপুরে বদলী করা হয়। রোববার উপজেলায় বিষয়টি জানাজানি হলে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
জাতীয় যুবশক্তির উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাবেক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কমিটির উপজেলার মুখ্য সংগঠক মোবাশ্বের মীম বলেন, যোগদানের পর থেকে উপজেলার উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে যায়। তিনি প্রতি কার্য দিবসে দুপুরে ১টার পরে তাকে আর অফিসে পাওয়া যায় না। ফলে অসংখ্য মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করতে এসে হয়রানীর শিকার হয়েছেন। এসব নিয়ে আমরা কথা বলেছিলাম। গত ১৬ তারিখে জুলাই শহিদ দিবসে আমাদেরকে ডেকে নেয়া হয়। আমরা জুলাই যোদ্ধারা সেখানে যাই। আমাদের বসতে না দিয়ে আমাদের অসম্মান করা হয়। এ ঘটনা নিয়ে সাবেক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল কবির স্বাদ তার ফেসবুক আইডিতে অভিযোগ করে লেখেন, জুলাই যোদ্ধাদের ডাকার নামে অদ্ভুত নাটক করে প্রশাসন। নাগেশ্বরীর শতশত জুলাই যোদ্ধাদের উপেক্ষা করার সাহস প্রশাসন কোথা থেকে পায়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
৩৫ বিসিএস-এর কর্মকর্তা এইচ এম খোদাদাদ হোসেন চলতি বছরের ১২ মে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে, ঠিকমতো উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এবং পৌরসভার প্রশাসক হয়েও পৌরসভার কার্যালয়ে সঠিক সময়ে অফিস না করা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পৌরসভার অন্যান্য কর্মচারী ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ, এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণে অব্যবস্থাপনা, বন্যায় বানভাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত জিআর এর ৩০ মেট্রিকটন চাল বিতরণ না করাসহ নানা অভিযোগ ছিলো তার বিরুদ্ধে।

