ঢাকাবুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬
  1. ইতিহাস
  2. উলিপুর উপজেলা
  3. এসবি পডকাস্ট (বিভাগ ভিত্তিক)
  4. কুড়িগ্রাম
  5. কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা
  6. খুলনা বিভাগ
  7. চট্টগ্রাম বিভাগ
  8. চাকরি
  9. চিলমারী উপজেলা
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. নাগেশ্বরী উপজেলা
  13. নারী
  14. প্রযুক্তি
  15. ফুলবাড়ী উপজেলা
আজকের সর্বশেষ খবর

ভঙ্গামারীতে কৃষকদের সার না দেওয়ার তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি, ক্যাশ মেমোতে অসংগতি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে বিসিআইসির সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়ার অভিযোগ এবং ক্যাশ মেমোতে অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত রোববার দুপুরে শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ওই রাতেই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ধলডাঙ্গা বাজার থেকে কৃষকদের ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়া এবং ডিলারের ক্যাশ মেমোতে অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁকে শোকজ করা হয়েছে।
অমৃত দেবনাথ, ভূরুঙ্গামারীর ইউএনও বিষয়টি নিশ্চিত করে কমিটির সভাপতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শী, ডিলার ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও অমৃত দেবনাথ বলেন, ধলডাঙ্গা বাজার থেকে কৃষকদের ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়া এবং ডিলারের ক্যাশ মেমোতে অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁকে শোকজ করা হয়েছে।
এদিকে গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান।
জিডির তথ্য নিশ্চিত করে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।তদন্ত প্রতিবেদনে সার ডিলারের বিরুদ্ধে গাফিলাতি, সার বিক্রির রসিদ প্রদান না করা, রেজিস্টার ঘষা-মাজা ও সিন্ডেকেট সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।ডিলারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ একতরফা বলে দাবি মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের।
অপরদিকে প্রায় এক সপ্তাহ থেকে ওই ইউনিয়নে সার বিতরণ বন্ধ থাকায় সারের জন্য কৃষকরা তাদের আমন আবাদ নিয়ে শংকায় পরেছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেকের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি গতকাল সোমবার (২৪ আগষ্ট) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাতেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেন। এদিকে একতরফা তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, গত শনিবার (২২ আগষ্ট) ঘটনার আগেরদিন শিলখুড়ি ইউনিয়নের জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সদস্য সচিব এনামুল হক তার ফেসবুকে সার সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন “শিলখুড়ি ইউনিয়নে যারা সারের ডিলার নিয়েছেন তাদেরকে বলছি আগামী কাল নিরপেক্ষ তদন্ত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। গুপ্ত, সুপ্ত হয়ে (বিএনপির) তথা তারেক জিয়া সরকারকে নিয়ে তামাশা…..আমরা শিলখুড়ির নেতা, কর্মী ও জনগণ মেনে নেবে না। দোকানদারদের কাছে সার বিক্রি….. দেখা হবে খোলা মাঠে। আমার জানামতে দেশে সারের কোনো সঙ্কট নেই। আগামীকাল শিলখুড়ি ইউনিয়ন শাখার কৃষকদলের সকল নেতা-কর্মীকে সকাল নয়টায় উপস্থিত থাকার জন্য বলা হইল। আদেশ ক্রমে মো. এনামুল হক সদস্য সচিব কৃষকদল শিলখুড়ি ইউনিয়ন শাখা। সবার আগে বাংলাদেশ।”
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার ভাই ইউনিয়নটির বিএডিসির অনুমোদিত সার ডিলার। সেখানে আরোকিছু খুচরা সার বিক্রেতা রয়েছে। তাদেরকে ইউরিয়া সার প্রদান না করায় তারাও ডিলারে ওপর ক্ষুব্ধ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।।
অপরদিকে গত রবিবার ইউএনওর সভা কক্ষে সার বিতরণ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জরুরি আলোচনা সভায় আইনশৃংখলার সাথে জড়িত এক কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, সার বিতরণকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে এরকম একটি তথ্য তার কাছে ছিল। সেই লক্ষ্যে তিনি একটি টিম প্রস্তুত রেখেছিলেন। তবে তিনি বিষয়টি কেনো ঘটনা ঘটার আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিংবা কৃষি অফিসারকে জানাননি এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, রোববার সার বিতরণের কথা ছিল। এর আগের দিন শনিবার রাতে শিলখুড়ি ইউনিয়ন কৃষক দলের মো: এনামুল হক ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। রোববারের ঘটনার সাথে ওই পোস্টের যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এসব ঘটনা তদন্ত প্রতিবেদনে না আসায় দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে জনমনে সংশয়, সন্দেহ ও বিভিন্ন প্রশ্নের উদয় হয়েছে।
উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সুরুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিবকে ফেসবুক পোস্টের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। পোস্টটি ডিলিট করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি আমিনুল হক তারেক জানান, ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কৃষকদের সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, আব্দুল লতিফ নামের একব্যক্তিকে আসামি করে সাধারণ ডায়েরি করেছে সার ডিলার। এবিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ জানান, ডিলারকে শোকজ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবার প্রেরণ করা হয়েছে।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।