ঢাকারবিবার , ১১ অক্টোবর ২০২৬
  1. ইতিহাস
  2. উলিপুর উপজেলা
  3. এসবি পডকাস্ট (বিভাগ ভিত্তিক)
  4. কুড়িগ্রাম
  5. কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা
  6. খুলনা বিভাগ
  7. চট্টগ্রাম বিভাগ
  8. চাকরি
  9. চিলমারী উপজেলা
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. নাগেশ্বরী উপজেলা
  13. নারী
  14. প্রযুক্তি
  15. ফুলবাড়ী উপজেলা
আজকের সর্বশেষ খবর

কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলে শিক্ষার্থী‌দের ২০ টাকার হো‌টেল কু‌ড়িগ্রাম প্রতি‌নি‌ধি-১১-১০-২৬ দুপুরের বিরতি পড়তেই ক্যান্টিনের সামনে ভিড়। কেউ হাতে প্লেট নিয়ে দাঁড়িয়ে, কেউ খিচুড়ি নিয়ে বসেছে, আবার কেউ পরোটা-রুটি নিয়ে ব্যস্ত। খাবার শেষে বিল দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকের মুখেই স্বস্তির হাসি, কারণ পেটভরা খাবারের দাম মাত্র ২০ টাকা। কু‌ড়িগ্রা‌মের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় এক বছর ধরে এমনই কম দামের খাবারের ব্যবস্থা করে আসছেন ছবেদ আলী। তার ক্যান্টিনের নাম ‘খাদ্য ছায়া স্কুল ক্যান্টিন’। প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ শিক্ষার্থী এখানে খাবার খায়। খিচুড়ি, পরোটা, ডাল, রুটি ক্যান্টিনে থাকা বেশির ভাগ খাবারের দাম ২০ টাকা। বাজারে যে খাবারের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, সেটিও এখানে পাওয়া যায় ২০ টাকায়। এমনকি মাংসের খিচুড়িও দেওয়া হয় এই দামে। ছবেদ আলীর নিজের জীবন এতটা স্বচ্ছল নয়। আগে গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে রান্নার কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন তিনি। নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস ছিল না। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে এখন শৌলমারী বাজারের পাশে অন্যের জায়গায় আশ্রিত হয়ে আছেন।শারীরিকভাবেও কিছুটা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তার। প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরে ক্যান্টিন পরিচালনার সুযোগ পান ছবেদ আলী। সেই ক্যান্টিনই এখন তার কর্মসংস্থানের জায়গা। তবে নিজের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামর্থ্যের কথাও বিবেচনায় রেখেছেন তিনি। ক্যান্টিনে বর্তমানে ছয়জন কর্মচারী কাজ করেন। তাদের বেতন, রান্নার উপকরণ ও অন্যান্য খরচ মেটাতে হয় ছবেদ আলীকে। ফলে ২০ টাকার খাবারে খুব একটা লাভ থাকে না। তবু শিক্ষার্থীদের জন্য কম দামের খাবার বন্ধ করেননি তিনি। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফেরদৌস শাহারিয়ার বলে, আমাদের জন্য এখানে ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে, যাতে খাবারের জন্য বাইরে যেতে না হয়। ২০ টাকার বিনিময়ে এখানে ভালো খাবার পাওয়া যায়। একই শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন বলে, আমাদের স্কুলের ক্যান্টিনটি খুবই মানসম্মত। মাঝে মাঝে খাবারে ছাড়ও দেওয়া হয়। বাজারে যে খাবারের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, সেটি এখানে ২০ টাকায় পাওয়া যায়। ২০ টাকায় মাংসের খিচুড়িও পাওয়া যায়। এটা আমাদের জন্য খুবই উপকারী। ক্যান্টিনের উদ্যোক্তা ছবেদ আলী বলেন, বাইরের খাবার সব সময় মানসম্মত পাওয়া যায় না। আগে বিভিন্ন বাড়িতে অনুষ্ঠানে রান্না করে বেড়াতাম। পরে এলাকাবাসী আমাকে এখানে এনে ক্যান্টিন করার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি নিজেও কিছুটা পঙ্গু। তিনি বলেন, খিচুড়ি, পরোটা, ডাল, রুটি বা অন্যান্য খাবার ২০ টাকায় দিলেও এতে আমার লাভ হয় না। অনেক সময় কেউ ২০ টাকার খাবার ১০ টাকাতেও খায়। তবে স্কুলের সময়ের বাইরে অন্য ক্রেতারা আসেন। তখন যে লাভ হয়, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলছে। স্কুল চলাকালে ক্যান্টিনের প্রধান ক্রেতা শিক্ষার্থীরা। এ সময় বাইরের ক্রেতাদের কাছে খাবার বিক্রি করা হয় না। ক্লাস শেষ হলে বাইরের ক্রেতাদের জন্য ক্যান্টিন খুলে দেওয়া হয়। তাদের কাছে খাবার বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কম দামে খাবার দেওয়ার ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ছবেদ আলী। চর শৌলমারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে একটি ক্যান্টিন চালুর চিন্তাভাবনা ছিল। স্কুলের পাশের বাসিন্দা ছবেদ আলীও একজন অসহায় মানুষ। ২০২৫ সালের শেষের দিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর মাধ্যমে ক্যান্টিনটি চালু করা হয়। ক্যান্টিনটির স্বত্বাধিকারী চর শৌলমারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হলেও এটি পরিচালনা করেন ছবেদ আলী। তিনি বলেন, ক্যান্টিনটি চালু হওয়ায় আমাদের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছে। তারা অল্প দামে খাবার খেতে পারছে। আমরা নিয়মিত ক্যান্টিনটি তদারকি করি। আশপাশের অন্য হোটেলের তুলনায় ক্যান্টিনে খাবারের মানও ভালো।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৯:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দুপুরের বিরতি পড়তেই ক্যান্টিনের সামনে ভিড়। কেউ হাতে প্লেট নিয়ে দাঁড়িয়ে, কেউ খিচুড়ি নিয়ে বসেছে, আবার কেউ পরোটা-রুটি নিয়ে ব্যস্ত। খাবার শেষে বিল দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকের মুখেই স্বস্তির হাসি, কারণ পেটভরা খাবারের দাম মাত্র ২০ টাকা।
কু‌ড়িগ্রা‌মের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় এক বছর ধরে এমনই কম দামের খাবারের ব্যবস্থা করে আসছেন ছবেদ আলী। তার ক্যান্টিনের নাম ‘খাদ্য ছায়া স্কুল ক্যান্টিন’। প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ শিক্ষার্থী এখানে খাবার খায়।
খিচুড়ি, পরোটা, ডাল, রুটি ক্যান্টিনে থাকা বেশির ভাগ খাবারের দাম ২০ টাকা। বাজারে যে খাবারের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, সেটিও এখানে পাওয়া যায় ২০ টাকায়। এমনকি মাংসের খিচুড়িও দেওয়া হয় এই দামে।
ছবেদ আলীর নিজের জীবন এতটা স্বচ্ছল নয়। আগে গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে রান্নার কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন তিনি। নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস ছিল না। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে এখন শৌলমারী বাজারের পাশে অন্যের জায়গায় আশ্রিত হয়ে আছেন।শারীরিকভাবেও কিছুটা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তার।
প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরে ক্যান্টিন পরিচালনার সুযোগ পান ছবেদ আলী। সেই ক্যান্টিনই এখন তার কর্মসংস্থানের জায়গা। তবে নিজের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামর্থ্যের কথাও বিবেচনায় রেখেছেন তিনি।
ক্যান্টিনে বর্তমানে ছয়জন কর্মচারী কাজ করেন। তাদের বেতন, রান্নার উপকরণ ও অন্যান্য খরচ মেটাতে হয় ছবেদ আলীকে। ফলে ২০ টাকার খাবারে খুব একটা লাভ থাকে না। তবু শিক্ষার্থীদের জন্য কম দামের খাবার বন্ধ করেননি তিনি।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফেরদৌস শাহারিয়ার বলে, আমাদের জন্য এখানে ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে, যাতে খাবারের জন্য বাইরে যেতে না হয়। ২০ টাকার বিনিময়ে এখানে ভালো খাবার পাওয়া যায়।
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন বলে, আমাদের স্কুলের ক্যান্টিনটি খুবই মানসম্মত। মাঝে মাঝে খাবারে ছাড়ও দেওয়া হয়। বাজারে যে খাবারের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, সেটি এখানে ২০ টাকায় পাওয়া যায়। ২০ টাকায় মাংসের খিচুড়িও পাওয়া যায়। এটা আমাদের জন্য খুবই উপকারী।
ক্যান্টিনের উদ্যোক্তা ছবেদ আলী বলেন, বাইরের খাবার সব সময় মানসম্মত পাওয়া যায় না। আগে বিভিন্ন বাড়িতে অনুষ্ঠানে রান্না করে বেড়াতাম। পরে এলাকাবাসী আমাকে এখানে এনে ক্যান্টিন করার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি নিজেও কিছুটা পঙ্গু।
তিনি বলেন, খিচুড়ি, পরোটা, ডাল, রুটি বা অন্যান্য খাবার ২০ টাকায় দিলেও এতে আমার লাভ হয় না। অনেক সময় কেউ ২০ টাকার খাবার ১০ টাকাতেও খায়। তবে স্কুলের সময়ের বাইরে অন্য ক্রেতারা আসেন। তখন যে লাভ হয়, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলছে।
স্কুল চলাকালে ক্যান্টিনের প্রধান ক্রেতা শিক্ষার্থীরা। এ সময় বাইরের ক্রেতাদের কাছে খাবার বিক্রি করা হয় না। ক্লাস শেষ হলে বাইরের ক্রেতাদের জন্য ক্যান্টিন খুলে দেওয়া হয়। তাদের কাছে খাবার বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কম দামে খাবার দেওয়ার ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ছবেদ আলী।
চর শৌলমারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে একটি ক্যান্টিন চালুর চিন্তাভাবনা ছিল। স্কুলের পাশের বাসিন্দা ছবেদ আলীও একজন অসহায় মানুষ। ২০২৫ সালের শেষের দিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর মাধ্যমে ক্যান্টিনটি চালু করা হয়। ক্যান্টিনটির স্বত্বাধিকারী চর শৌলমারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হলেও এটি পরিচালনা করেন ছবেদ আলী।
তিনি বলেন, ক্যান্টিনটি চালু হওয়ায় আমাদের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছে। তারা অল্প দামে খাবার খেতে পারছে। আমরা নিয়মিত ক্যান্টিনটি তদারকি করি। আশপাশের অন্য হোটেলের তুলনায় ক্যান্টিনে খাবারের মানও ভালো।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “পেজ দ্যা নিউজ” কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।
কুড়িগ্রাম সর্বশেষ