প্রশাসনের দপ্তরে গিয়ে দিনের পর দিন ঘুরে বেড়ানো নয়,নিজেদের অভিযোগ, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষ। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনের সঙ্গে নাগরিকদের দূরত্ব কমাতে প্রতি বুধবার নিয়মিত সাপ্তাহিক গণশুনানির আয়োজন করছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন।
গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতাধিক সেবা-প্রত্যাশী মানুষ নিজেদের নানা সমস্যা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ধৈর্যসহকারে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
প্রশাসনের এমন উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আস্থার নতুন জায়গা। অনেকের কাছে সরকারি দপ্তরের দরজা যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা ও ভোগান্তির প্রতীক ছিল, সেখানে গণশুনানি সেই দূরত্ব কমিয়ে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি করেছে। নাগরিকদের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়ায় সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও আরও গতিশীল হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়; বরং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক সেবার মান উন্নত করা। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পান এবং তাঁদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের নজরে আসে,এ লক্ষ্যেই নিয়মিত এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের নেতৃত্বে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠার এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সেবা-প্রত্যাশী মানুষ। তাঁদের প্রত্যাশা, গণশুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো শুধু শোনা নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হবে।
কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম পিছিয়ে থাকা জেলা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নানা নাগরিক সংকট ও সেবাবঞ্চনার সঙ্গে লড়ছে। এমন বাস্তবতায় প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, একটি গণমুখী প্রশাসনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের কথা শোনা এবং সমস্যার সমাধানে দ্রুত এগিয়ে আসা।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথও কুড়িগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনসেবার গুণগত মান বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গণশুনানির মতো উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, গণশুনানি তখনই সত্যিকার অর্থে সফল হবে, যখন এখানে উত্থাপিত প্রতিটি যৌক্তিক অভিযোগের পরিণতি হবে কার্যকর সমাধান। শুধু অভিযোগ শোনা নয়, অভিযোগের অগ্রগতি নজরদারি এবং নিষ্পত্তির পর নাগরিককে অবহিত করার ব্যবস্থা করা গেলে এ উদ্যোগ আরও কার্যকর ও জনআস্থার প্রতীকে পরিণত হতে পারে।
জনগণের কথা সরাসরি শুনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার প্রতিফলন ঘটানোই সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি। সেই জায়গা থেকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের নিয়মিত গণশুনানি সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসনকে আরও কাছে নিয়ে আসার পাশাপাশি একটি জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসনিক সংস্কৃতির পথও তৈরি করছে।

