৩১ জুলাই রাত ১২টায় ১১ বছর পূর্ণ করে ১২ বছরে পা দিল ছিটমহল বিনিময় | বাংলাদেশের বৃহত্তম ছিটমহল দাসিয়ার সহ দেশের অভ্যন্তরের ১১১টি ভারতীয় ছিটমহলের বাসিন্দারা দীর্ঘ ৬৮ বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তিলাভ করে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে। অবসান ঘটে দীর্ঘ সময়ের অন্ধকার জীবনের। তারা ফিরে পায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, কৃষি সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা। অল্প সময়ের মধ্যে পাল্টে যায় তাদের জীবন ব্যবস্থা। তাই ৬৮ বছরের অন্ধকার দিনগুলো এখন তাদের কাছে শুধুই স্মৃতি।
জানা গেছে, বাংলাদেশ- ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির লাগাতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির আলােকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের কাছে এবং ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের কাছে হস্তান্তর করে উভয় দেশের সরকার। ফলে ভারতের ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর আয়তনের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলার সাথে যুক্ত হয়। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজলায় অবস্থিত দাসিয়ারছড়া ছিটমহল সবচেয়ে বড়। এর আয়তন ১ হাজার ৬৪৩ দশমিক ৪৪ একর এবং জনসংখ্যা (তৎকালিন) ৬৫২৯ জন।
ছিটমহল বিনিময়ের ১১ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দাসিয়ার ছড়ার বাসিন্দারা বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাত ১২.০১ মিনিটে দাসিয়ার ছড়ার কালিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৬৮ টি মোমবাতি প্রজ্বলন ও ৬৮ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির শুভ সূচনা। ১ আগষ্ট সুর্যোদয়ের সাথে সাথে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন, সকাল ১০ টায় বর্ণাঢ্য রেলি, সকাল ১১টায় আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ অংশের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গােলাম মােস্তফা, প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম, সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী আকবর আলী সহ অনেকে জানান, এ জনপদে আমরা মুসলিম-হিন্দু পাশাপাশি মিলেমিশে বসবাস করছি। ছিটমহল বিনিময়ের পর অনেক উনয়ন হয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, মসজিদ, মন্দির, বিদ্যুৎ সংযোগ, পাকা রাস্তা, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, সেচ প্রকল্প, ভুমি রেকর্ড সবকিছু পেয়েছি আমরা। এতকিছুর পরও আমরা সাবেক এই ছিটমহলকে একটি পুর্নাঙ্গ ইউনিয়ন হিসাবে দেখতে চাই। বর্তমান সরকারের কাছে দাসিয়ার ছড়াবাসীর প্রাণের দাবী, দাসিয়ার ছড়াকে পুর্নাঙ্গ ইউনিয়ন হিসাবে ঘােষণা করা হউক। দাসিয়ার ছড়া ইউনিয়ন হলে আরও দ্রুত পাল্টে যাবে এখানকার ১৪/১৫ হাজার মানুষের জীবনযাত্রার মান।

