জানা গেছে, কুড়িগ্রাম শহরতলির গড়েরপাড় গ্রামের এক নারী (ছদ্মনাম: লিলি বেগম) ইএসডিও থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। তিনি নিয়মিত মাসিক কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। তবে পারিবারিক সংকটের কারণে চলতি মাসের ২০ হাজার টাকার কিস্তি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য ওই নারীর বাড়িতে যান ইএসডিওর মাঠকর্মী মাসুদ রানা। দিনভর চেষ্টা করেও কিস্তির টাকা আদায় করতে না পেরে তিনি বিষয়টি এরিয়া ম্যানেজার নরেশ চন্দ্র রায়কে জানান। পরে ম্যানেজারের নির্দেশে রাত ১০টার পর ওই নারীকে জোরপূর্বক এনজিও কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পারিবারিক সমস্যার কথা জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া বলেন, “গভীর রাতে একজন নারীকে অফিসে আটকে রাখার খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে এরিয়া ম্যানেজার নরেশ চন্দ্র রায় ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘এনজিও কর্মীদের কাছে রাত-বিরাত বলে কিছু নেই। ভোর ৪টা হলেও টাকা আদায় করেই ছাড়ব।’ পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ওই নারীকে সেখান থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়।”
তিনি আরও বলেন, “একজন মধ্যবয়সী নারীকে গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঋণ আদায়ের নামে মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ মানবিক নয়। এনজিওগুলোর ঋণ আদায়ে আরও কার্যকর নীতিমালা ও তদারকি প্রয়োজন।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী নারী (ছদ্মনাম: লিলি বেগম) বলেন, “আমি পারিবারিক সমস্যার কারণে এই মাসের কিস্তি আগামী মাসে পরিশোধের অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা তা মানেনি। পরে মাঠকর্মী আমাকে অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে রাত ১টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয়। পরে সাংবাদিকদের ফোন পাওয়ার পর তারা আমাকে যেতে দেয়।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইএসডিওর মাঠকর্মী মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইএসডিওর এরিয়া ম্যানেজার নরেশ চন্দ্র রায় বলেন, “ওই নারীকে আটকে রাখা হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় অফিসে এসেছিলেন। তাকে জোর করে আনা বা আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়।”
এনজিওর বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ এবং ঋণ আদায়ের এমন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সাথে কথা হলে তিনি জানান, “এনজিওরা এটা করতে পারে ওই মহিলার উপর যে আচরন করা হয়েছে তা খুবই অমানবিক। বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।